আজকের তৃতীয় ওয়ানডে আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচে, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ভারত ৯ উইকেটের বিশাল জয় অর্জন করেছে। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে ৪৭.২ ওভারে ২৩৬ রানে অলআউট হয়েছে, এবং ভারত ৩৮.৩ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রানের লক্ষ্য অর্জন করে।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত সিরিজ সাদা ধোয়া (হোয়াইটওয়াশ) এড়িয়েছে, যদিও অস্ট্রেলিয়া আগের দুটি ম্যাচ জিতে ২-১ এ সিরিজ জিতেছে। ম্যাচটি দেখতে এসেছে ৪০,৫৮৭ দর্শক, এবং এটি সম্ভবত রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির অস্ট্রেলিয়ায় শেষ ওডিআই ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি ভারতের জন্য ১৮তম সার্বাধিক টস হারের সিরিজ, যা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। অস্ট্রেলিয়া শুরুতে ভালো করলেও, ভারতের বোলিং আক্রমণ – বিশেষ করে হর্ষিত রানার ক্যারিয়ার-সেরা ৪/৩৯ – তাদের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস: শুরুর প্রতিশ্রুতি এবং মিডল অর্ডারের ধসঅস্ট্রেলিয়া ১৮৩/৩ পর্যন্ত ভালো অবস্থানে ছিল, কিন্তু তারপর ৫৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৬-এ অলআউট হয়। ম্যাট রেনশ'র মেডেন ওডিআই হাফ সেঞ্চুরি (৫৬ রান, ৪৮ বল) এবং অ্যালেক্স ক্যারির ২৩ রানের ৫০ রানের পার্টনারশিপ চতুর্থ উইকেটে ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু হর্ষিত রানা রেনশ'কে ধসিয়ে দেন, এবং তারপর অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার (মিচ ওয়েন ০, নাথান এলিস ০, জশ হ্যাজেলউড ০, অ্যাডাম জাম্পা ০) সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
ভারতের চেজ ছিল অপ্রতিরোধ্য। শুভমান গিল শূন্যে আউট হলেও, রোহিত শর্মা (১২১, ১০৫ বল) এবং বিরাট কোহলি (৭৪) ১৭০ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। রোহিতের ৩৩তম ওডিআই শতরান (অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নবম) দুটি সিক্স (অ্যাডাম জাম্পার উপর ইনসাইড-আউট লফটেড ড্রাইভ এবং স্লগ সুইপ) সহ চমৎকার ছিল। কোহলি সিরিজের দুটি ডাকের পর ফ্লুয়েন্ট ইনিংস খেলেন, মিচেল স্টার্কের উপর স্ট্রেইট ড্রাইভ এবং ৩৬-এ ডিআরএস রিপ্রিভ সহ। তারা ৬৯ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে।
এই ম্যাচে ভারতের বোলিং ইউনিট – বিশেষ করে হর্ষিত রানা এবং স্পিনাররা – অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারকে ধ্বংস করে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতলেও, তাদের লোয়ার অর্ডারের দুর্বলতা উন্মোচিত হয়। ভারতের জন্য, রো-কোর পার্টনারশিপ (১৬৮ রান) ক্লাসিক ছিল, যা তাদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা প্রদর্শন করে। এটি সম্ভবত রোহিত এবং কোহলির অস্ট্রেলিয়ায় শেষ ম্যাচ, যা আবেগপূর্ণ করে তোলে।
