⚽ ৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ পর্তুগালের অন্তর্গত একটি ছোট দ্বীপ মাদেইরা তে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ডোস সান্তোস আভেইরো। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে তার পরিবার প্রথমে জন্ম দিতে চাননি কিন্তু তার মা জোর করায় অবশেষে ভূমিষ্ঠ হন পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন।
২০২৫ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বয়স হল ৪০ বছর কিন্তু তার খেলা দেখলে বয়স মনে হয় ২০। একজন ফুটবলার কতটা পেশাদার হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল cr7। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো বডি ফ্যাট একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম তার বডি মাসল যেকোনো ক্রীড়াবিদের কাছে ঈর্ষণীয়।
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর বয়স ৪০ হলেও তার বায়োলজিক্যাল বয়স ২৫ এর মধ্যে অর্থাৎ তার ফিটনেস তার শরীরের ক্ষমতা তার পেশি মাসেল সবই একজন তরুনের মত। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো যেখানেই থাকেন সেখানেই তার নিজস্ব জিম ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করে ফেলেন তিনি সর্বসময় তার শরীরের জন্য কি ভালো সেটাই চিন্তা করেন, জেতার অদম্য খিদে এবং হার না মানা মানসিকতা না থাকলে এই ধরনের জীবন যাপন সম্ভব নয়।
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো সমগ্র পৃথিবী মানুষের কাছে একটি উদাহরণ যে কোন আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের জন্য কি পরিমাণে আত্মত্যাগ করা উচিত। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো সারা দিনে মোট ছবার ঘুমান, দু ঘন্টা করে প্রতিবারে। নিজের জন্য এই ধরনের স্লিপ ম্যানুয়াল খুব কম ব্যক্তিই করেন, এর পিছনে ডাক্তারদের পরামর্শ তো অবশ্যই আছে তার সাথে রয়েছে পেশাদার মানসিকতা। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো তার ডায়েটে প্রোটিন এর পরিমাণ বেশি রাখেন এবং কার্বোহাইড্রেড ও ফ্যাট পরিমাণ মতো রাখেন।
প্যাট্রিক এব্রা, ফ্রান্স ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্বনামধন্য সাইট ব্যাক এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর সতীর্থ একটি ইন্টারভিউতে রোনাল্ডো সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এ থাকাকালীন প্যাট্রিক এব্রা একবার রোনাল্ডোর বাড়ি গিয়েছিলেন এবং তিনি ভেবেছিলেন যে ওখানে গিয়ে কোন মুভি দেখবেন সাথে একটু খাওয়া-দাওয়া করবেন।
এব্রা যে খাওয়া-দাওয়ার কথা ভেবেছিলেন সেটিকে চিট মিল বলে আমরা জানি কিন্তু রোনাল্ডোর সাথে দেখা করার পর প্যাট্রিক বুঝতে পারেন যে তার সেই আশা পূরণ হবে না। রুয়ান্ডোর বাড়িতে প্যাট্রিক ও রোনাল্ডো দুজনে মিলে বিভিন্ন ট্রেনিং সেশন করেন, সুইমিং করেন, ফান গেম খেলেন এবং খাওয়ার যেটা খান সেটা হল সিদ্ধ চিকেন সাথে স্যালাড।
প্যাটট্রিক মজা করে বলেন যে, রোনাল্ডোর বাড়িতে যদি কেউ কোন নিমন্ত্রণ পান তাহলে সেটা প্রত্যাখ্যান করা উচিত কারণ সেখানে গিয়ে কোন মজার বিষয় হবেনা বরং ট্রেনিং করতে হবে।
প্যাট্রিক মজা করে ওই কথাগুলো বললেও ওই কথাগুলি থেকে এটা বোঝা যায় যে রোনাল্ডো তার ভালোবাসা ফুটবলকে নিয়ে কতটা চিন্তিত এবং কতটা পেশাদার। তিনি সবকিছুর মধ্যে ফুটবলকে নিয়েই থাকেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো টোটাল ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এই মুহূর্তে ৯৪২, আর মাত্র ৫৮ টা গোল তারপরেই রোনাল্ডো হাজার গোলের সংখ্যা ছোঁবেন।
৪০ বছর বয়সে খেলোয়াররা যেখানে অবসর জীবন কাটান সেখানে এই মানুষটি নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছেন এবং গড়ছেন যেটা সকলের কাছে একটি দৃষ্টান্ত।
৪০ বছরের যুবক ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো আগামী দিনে আরো নতুন নতুন রেকর্ড গড়বেন, ২০২৬ সালে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ এখন তার পাখির চোখ ওই কাপটি জেতার জন্য রোনাল্ডো তথা পর্তুগাল দল মুখিয়ে রয়েছে।।।।।।
