know more
চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব গ্রিমসবি টাউনের কাছে লজ্জাজনক হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

গতকাল, ২৭ আগস্ট ২০২৫-এ, কারাবাও কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং গ্রিমসবি টাউনের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ম্যাচটি ব্লান্ডেল পার্কে খেলা হয়, যেখানে চতুর্থ বিভাগের দল গ্রিমসবি টাউন ২-২ ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ১২-১১ গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করে। এটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক ফলাফল, যা ম্যানেজার রুবেন আমোরিমের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রথমার্ধ: গ্রিমসবি টাউন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা দেখায়। ২২ মিনিটে চার্লস ভার্নাম দাররাগ বার্নসের অ্যাসিস্ট থেকে একটি শক্তিশালী শটে গোল করে গ্রিমসবিকে ১-০ এগিয়ে দেয়। এই গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার আন্দ্রে ওনানা ব্যর্থ হন। ৩০ মিনিটে টাইরেল ওয়ারেন একটি শর্ট কর্নার থেকে ওনানার ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করে স্কোর ২-০ করে। এই অর্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দুর্বল প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণে অসংগঠিত ছিল। দ্বিতীয়ার্ধ: হাফটাইমে আমোরিম ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ম্যাথাইজ ডি লিগট এবং ব্রায়ান এমবিউমোকে মাঠে নামান। ৭৫ মিনিটে কোবি মেইনু'র অ্যাসিস্ট থেকে এমবিউমো গোল করে স্কোর ২-১ করে। ৮৯ মিনিটে মেসন মাউন্টের কর্নার থেকে হ্যারি ম্যাগুয়ার হেড করে সমতা ফেরান, স্কোর ২-২। এই দেরী কামব্যাক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পেনাল্টিতে নেয়। পেনাল্টি শুটআউট: এটি একটি ম্যারাথন শুটআউট ছিল।

ওনানা গ্রিমসবির ক্লার্ক ওডুয়ুর পেনাল্টি সেভ করেন, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাথিউস কুনহার পেনাল্টি সেভ হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রায়ান এমবিউমোর দ্বিতীয় পেনাল্টি ক্রসবারে লেগে যায়, এবং গ্রিমসবি ১২-১১ জয় লাভ করে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড:আন্দ্রে ওনানা: দুটি গোলেই ভুল করেন, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে। পেনাল্টিতে একটি সেভ করলেও সামগ্রিকভাবে দুর্বল। কোবি মেইনু: প্রথমার্ধে অস্বস্তিকর, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এমবিউমোর গোলে অ্যাসিস্ট করে। সিজনের প্রথম স্টার্টে রাস্টি দেখায়।ব্রায়ান এমবিউমো: গোল করে এবং পেনাল্টিতে মিস করে, মিশ্র পারফরম্যান্স। হ্যারি ম্যাগুয়ার: দেরী গোল করে ম্যাচকে পেনাল্টিতে নেয়।

গ্রিমসবি টাউন:চার্লস ভার্নাম এবং টাইরেল ওয়ারেন: উভয়ই গোল করে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিরক্ষাকে চাপে ফেলে। ওয়ারেন, যিনি পূর্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলে ছিলেন, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ট্যাকটিক্স এবং কৌশলগত ভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩-৪-৩ ফর্মেশনে শুরু করে, যা চতুর্থ বিভাগের দলের বিরুদ্ধে অত্যধিক প্রতিরক্ষামূলক বলে সমালোচিত হয়েছে। এতে মেইনু'র মতো মিডফিল্ডারদের বড় এলাকা ডিফেন্ড করতে হয়েছে, যা তাদের স্টাইলের সাথে মেলেনি।

গ্রিমসবি আক্রমণাত্মক ডিফেন্স এবং শর্ট কর্নার ব্যবহার করে সফল হয়েছে, যা ওনানার ভুলের সুযোগ নেয়। হাফটাইম সাবস্টিটিউশন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে সাহায্য করে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমোরিমের সিস্টেমে খেলোয়াড়দের অসংগঠিততা স্পষ্ট ছিল। রুবেন আমোরিম ম্যাচ চলাকালীন অস্বস্তিকর ছিলেন, খেলোয়াড়দের নির্দেশ দিতে থাকেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এই পরাজয় তার ৪৪ ম্যাচে ১৬ জয়ের রেকর্ডকে আরও খারাপ করে, এবং ক্লাবের ইতিহাসে এমন লজ্জাজনক ফলাফল তার উপর চাপ বাড়ায়। গ্রিমসবির ম্যানেজার ডেভিড আর্টেল বলেন, এই ম্যাচটি তার খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এই ম্যাচ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য একটি ঐতিহাসিক অপমান, যা ৩০ বছরে তৃতীয়বার এই স্টেজে বাদ পড়া। গত সিজনে ১৫তম স্থানে থাকার পর ইউরোপিয়ান কোয়ালিফাই না করায় তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। নতুন সাইনিংস যেমন এমবিউমো, কুনহা এবং বেনজামিন সেসকো সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্স দুর্বল, যা আমোরিমের কৌশলের সাথে খেলোয়াড়দের অভিযোজনের সমস্যা নির্দেশ করে।

গ্রিমসবি, লিগ টু'তে চতুর্থ স্থানে থাকা, তাদের যুবক এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে সাহসী খেলা দেখিয়েছে। এই ফলাফল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সিজনকে আরও কঠিন করে তুলবে, যেখানে তারা সর্বোচ্চ ৪৫ ম্যাচ খেলতে পারবে।।।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *