এশিয়া কাপ ২০২৫-এর গ্রুপ এ-র ১২তম ম্যাচে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ভারত ওমানকে ২১ রানে পরাজিত করে গ্রুপ পর্যায়ে অপরাজিত থেকে সুপার ফোরে উঠে গেছে। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৮৮/৮ রান করেছে, যা ওমান ১৬৭/৪-এ সীমিত রেখে ২২ রানে থেমে গেছে। ভারতের অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই জয়ের সাথে ভারত গ্রুপ এ-তে তিন ম্যাচে তিন জয় করে শীর্ষে স্থান করে।
ভারতের ইনিংস শুরু হয়েছে আক্রমণাত্মকভাবে, কিন্তু প্রথমেই ধাক্কা খেয়েছে। শুভমান গিল ১.৩ ওভারে শাহ ফয়সালের বলে বোল্ড হয়ে ৫ রানে (১x৪) চলে গেছেন। এরপর অভিষেক শর্মা (৩৮ রান, ১৫ বল, ৫x৪, ২x৬) এবং সঞ্জু স্যামসনের মধ্যে ৬৬ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে, যা ভারতকে পুনরুদ্ধার করেছে। অভিষেক ৭.১ ওভারে জিতেন রামানান্দির বলে ধরা পড়ে বেরিয়ে যান। হার্দিক পান্ড্যা (১ রান) রান আউট হয়ে যান, এবং শিবম দুবে মাত্র ৫ রান করে বের হন।
অক্ষর পটেল (২৬ রান, ১৩ বল, ৩x৪, ১x৬) এবং সঞ্জু স্যামসন (৫৬ রান, ৪৫ বল, ৩x৪, ৩x৬) দ্বিতীয় উইকেটে ভালো যোগদান করেন, কিন্তু স্যামসন ১৭.৪ ওভারে শাহ ফয়সালের বলে ধরা পড়ে হাফ সেঞ্চুরি (৫০+) তৈরি করেন। পরে তিলক বর্মা (২৯ রান, ১৮ বল, ১x৪, ২x৬) ত্বরান্বিত করেন, কিন্তু ১৮.৩ ওভারে ধরা পড়েন। হর্ষিত রানা ৮ বলে ১৩* (১x৬) রান করে শেষ করেন।
ওমানের বোলাররা ভালো লড়াই করে: শাহ ফয়সাল ২/২৩, আমির কালিম ২/৩১, জিতেন রামানান্দি ২/৩৩। ব্যাটিং ট্র্যাকে ১৮৮/৮ একটি লড়াইযোগ্য স্কোর ছিল, যা ভারতকে সুপার ফোরের জন্য আত্মবিশ্বাসী করে।
ওমানের চেজ শুরু হয়েছে স্থিতিশীলভাবে। জাতিন্দর সিং (৩২ রান, ৩৩ বল, ৫x৪) এবং আমির কালিমের মধ্যে প্রথম উইকেটে ৫৬ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে ওমানকে মজবুত করে। কালিম (৬৪ রান, ৪৬ বল, ৭x৪, ২x৬) দ্বিতীয় উইকেটে হাম্মাদ মির্জার সাথে ৯৩ রানের দুর্দান্ত অংশীদারিত্ব করে, যা ওমানকে টার্গেটের কাছাকাছি নিয়ে আসে। মির্জা (৫১ রান, ৩৩ বল, ৫x৪, ২x৬) হাফ সেঞ্চুরি করে হার্দিক পান্ড্যার বলে ধরা পড়েন। পরে জিকরিয়া ইসলাম (০) এবং ভিনায়াক শুক্লা (১) দ্রুত বের হন, কিন্তু শেষ ওভারে জিতেন রামানান্দি (১২ রান, ৫ বল, ৩x৪) তিনটি বাউন্ডারি করে লড়াই চালিয়ে যান।
তবে আরশদীপ সিংহের শেষ বলে কালিম ধরা পড়ে যান। ভারতের বোলিং: হর্ষিত রানা ১/25, হার্দিক পান্ড্যা ১/২৬, কুলদীপ যাদব ১/২৩, আরশদীপ সিংহ ১/৩৭। ভারত আটজন বোলার ব্যবহার করে গভীরতা দেখায়, কিন্তু পূর্বের ম্যাচের মতো ধারালো ছিল না। ওমান প্রথমে সময় নিয়ে বাড়তি আক্রমণাত্মকতার অভাব দেখিয়েছে, যা তাদের পতন ঘটায়।
পরবর্তী ম্যাচে ভারত পাকিস্তানের সাথে দুবাইয়ে খেলবে। এই ম্যাচটি দেখিয়েছে যে ভারতের গভীরতা এবং অভিজ্ঞতা তাদের শক্তিশালী করে।
