আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫-এর ২৪তম ম্যাচে, ২৩ অক্টোবর ২০২৫-এ নাভি মুম্বাইয়ের ডি.ওয়াই. প্যাটিল স্টেডিয়ামে ভারতীয় মহিলা দল নিউজিল্যান্ড মহিলা দলকে ৫৩ রানে (ডিএলএস পদ্ধতি) পরাজিত করে সেমিফাইনালে স্থান নিশ্চিত করেছে।
এটি ছিল ভারতের এই টুর্নামেন্টে তৃতীয় জয়, যা তাদের তিন ম্যাচের পরাজয়ের ধারা ভাঙিয়েছে এবং নিউজিল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিতাড়িত করেছে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ৪৯ ওভারে সীমাবদ্ধ হয় এবং ভারত ৩৪০/৩ রান তুলে নেয়। ডিএলএস পদ্ধতিতে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ৪৪ ওভারে ৩২৫ রান, কিন্তু তারা ২৭১/৮ রানে থেমে যায়। এটি ভারতের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর (আগের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩০)।
ভারতের ক্যাপ্টেন হর্মানপ্রীত কাউর টস হারেন এবং নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। দিন-রাত্রির ম্যাচে বৃষ্টি মাঝপথে বাধা দেয়, কিন্তু ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ এটিকে সতেজতার সাথে মোকাবিলা করে। নিউজিল্যান্ডের ক্যাপ্টেন সোফি ডেভিনের সিদ্ধান্তটি পরে ভুল প্রমাণিত হয়, কারণ ভারতের উচ্চ স্কোর তাদের চেজকে অসম্ভব করে তোলে।
ভারতের ইনিংস শুরু হয় ধীরগতিতে—প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ১৮ রান। কিন্তু ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা এবং প্রতীকা রাওয়ালের ২১২ রানের অদম্য অংশীদারিত্ব (৩২.২ ওভারে) ম্যাচের গতি বদলে দেয়। এটি ভারতীয় জুটির মহিলা ওডিআই-তে সপ্তম শতক অংশীদারিত্ব, যা রেকর্ড সমতুল্য।
স্মৃতি মন্ধানা (১০৯, ৯৫ বল, ১০ চার, ৪ ছক্কা): তার ১৪তম ওডিআই শতরান (৮৮ বলে), যা মেগ ল্যানিংয়ের সর্বকালের রেকর্ডের মাত্র একটি পিছিয়ে। ৭৭ রানে এলবিডব্লিউ রিভিউ থেকে বেঁচে যান (আলট্রাএজে স্পাইক দেখা যায়)। অ্যামেলিয়া কেরের বিরুদ্ধে সুইপ এবং লফ শটসহ আক্রমণাত্মক খেলেন। ৩৩.২ ওভারে সুজি বেটসের বলে লং-অনে ধরা পড়েন।
প্রতীকা রাওয়াল (১২২, ১৩৪ বল, ১৩ চার, ২ ছক্কা): তার দ্বিতীয় ওডিআই শতরান (১২২ বলে)। ১০৮ রানে ড্রপ হলেও, লেয়া টাহুহুর বিরুদ্ধে চারগুলো স্মরণীয়। ৪২.৬ ওভারে বেটসের বলে আউট।
মধ্যস্থলে জেমিমা রড্রিগেসের প্রত্যাবর্তন (নং. ৩-এ) বিজয়ের চাবিকাঠি। তিনি ৭৬* (৫৫ বল, ১১ চার) রান করে অপরাজিত থাকেন, সুইপ, রিভার্স-সুইপ এবং ইনসাইড-আউট ড্রাইভসহ বৈচিত্র্যময় শট খেলে। হর্মানপ্রীত কাউর ১০ রান করে আউট হন, কিন্তু রিচা ঘোষ ৪* রান যোগ করেন। ৪৮তম ওভারে বৃষ্টি বাধা দেয় এবং ইনিংস শেষ হয়।
ডিএলএস-এ লক্ষ্য ৩২৫ রান (৪৪ ওভারে)—মহিলা ওডিআই-তে সর্বোচ্চ লক্ষ্য। রেনুকা সিংহের প্রথম পাওয়ারপ্লেতে দুটি উইকেট (জর্জিয়া প্লিমার এবং সোফি ডেভিন) এবং কোনো বাউন্ডারি না দেওয়া চাপ সৃষ্টি করে। ক্রান্তি গাউডও টাইট বোলিং করে (প্রথম ৬ ওভারে কোনো বাউন্ডারি নেই)।
ব্রুক হ্যালিডে (৮১, ৮৪ বল, ৯ চার, ১ ছক্কা): ৮১ বলের ইনিংসে স্থিতিশীলতা দেখান, আইজি গেজের সাথে ৭২ রানের অংশীদারিত্ব করে।
আইজি গেজ (৬৫, ৫১ বল, ১০ চার)*: ক্যারিয়ার-সেরা অপরাজিত ইনিংস, কিন্তু পর্যাপ্ত ছিল না।
অন্যান্যরা: অ্যামেলিয়া কের ৪৫, জেস কের ১৮। শেষ ১৫ ওভারে ১৬৮ রান দরকার ছিল, কিন্তু নিয়মিত উইকেট এবং সতর্ক খেলায় তারা থেমে যায়। প্রতীকা রাওয়ালের মেডেন বিশ্বকাপ উইকেট (ম্যাডি গ্রিনকে) উল্লেখযোগ্য।
এই জয় ভারতের ব্যাটিং গভীরতা এবং স্পিন-বিরোধী দক্ষতা প্রদর্শন করে, বিশেষ করে রড্রিগেসের প্রত্যাবর্তন যা সেমিফাইনালের জন্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। নিউজিল্যান্ডের চেজ স্পিনের কাছে দুর্বলতা দেখায়, যদিও হ্যালিডে-গেজের প্রতিরোধ উল্লেখযোগ্য। ভারতের বোলিং শৃঙ্খলা (মাত্র পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলার সত্ত্বেও) তাদের পুনরুদ্ধারের প্রমাণ।
